দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি | দৈনিক প্রবাহ
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
কুমিল্লার দেবিদ্বারে এক স্কুল শিক্ষককে ‘হানিট্র্যাপে’ (প্রেমের ফাঁদ) ফেলে জিম্মি ও অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে লাইলি আক্তার (৩৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত নারীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষক মকবুল হোসেন মাস্টার বাদী হয়ে লাইলি আক্তারসহ অজ্ঞাত ৩ নারী ও ৫ পুরুষের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দেবিদ্বার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত লাইলি আক্তার উপজেলার ঘোষঘর গ্রামের আব্দুর রশিদ মিয়ার মেয়ে।
ঘটনার বিবরণ ও জিম্মি দশা
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্যমতে, লাইলি আক্তারের সাথে মকবুল হোসেনের আত্মীয় ইমনের গাড়ি বিক্রির টাকা নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিষয়টি আপোষ-মীমাংসার কথা বলে গত ৬ এপ্রিল বিকেলে আসর নামাজের পর দেবিদ্বার পৌরসভার মোল্লা বাড়ির মসজিদের সামনে থেকে শিক্ষক মকবুল হোসেনকে ডেকে নেন লাইলি। কথা বলার ছলে তাকে পার্শ্ববর্তী ‘আহসান মঞ্জিল’ নামে একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে পৌঁছামাত্র আগে থেকে ওত পেতে থাকা ৩ নারী ও ৫ পুরুষ ওই শিক্ষককে আটকে ফেলে। ইমনের পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য তাকে প্রচণ্ড চাপ দেওয়া হয়। শিক্ষক অপারগতা প্রকাশ করলে আসামিরা জোরপূর্বক তার সাথে আপত্তিকর কাজ করতে বাধ্য করে এবং তা ভিডিও ধারণ করে। এরপর শুরু হয় শারীরিক নির্যাতন।
অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
জিম্মি অবস্থায় পর্নোগ্রাফি ও নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মকবুল হোসেনের পকেট থেকে ৭ হাজার টাকা এবং আত্মীয় ইমনের মাধ্যমে বিকাশে ২০ হাজার টাকা আদায় করে চক্রটি। এখানেই শেষ নয়, জীবনের ভয় দেখিয়ে আরও ১ লাখ টাকা আদায় করে তারা।
ভিডিও ভাইরাল ও পুলিশের অ্যাকশন
মকবুল হোসেনকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জেলা পুলিশের নজরে আসে। দেবিদ্বার থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত মূল হোতা লাইলি আক্তারকে আটক করে।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য
অনুসন্ধানে জানা গেছে, লাইলি আক্তার দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও নারী দিয়ে দেহ ব্যবসার আড়ালে বিত্তশালীদের টার্গেট করে আসছিলেন। স্থানীয়রা জানান, ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের একাধিক প্রভাবশালী নেতাকেও একইভাবে ফাঁদে ফেলে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই নারী। লোকলজ্জার ভয়ে ইতিপূর্বে কেউ মুখ খোলেননি। তবে লাইলি আক্তার দাবি করেছেন, শিক্ষকের সাথে তার পূর্ব সম্পর্ক ছিল এবং পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের বক্তব্য
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, “ভিডিওর সূত্র ধরে আমরা তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার ও অভিযুক্ত নারীকে আটক করেছি। তিনি একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য। ভুক্তভোগীর দায়ের করা পর্নোগ্রাফি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”