দৈনিক প্রবাহ তারিখ: ৯ এপ্রিল, ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসান ঘটাতে বিশ্বনেতাদের এখনই ‘জরুরি ও কার্যকর’ পদক্ষেপ নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
গত ৮ এপ্রিল, ২০২৬ বুধবার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ইউনূস সেন্টার থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই বার্তা দেন।
বিবৃতিতে ডঃ ইউনূস উল্লেখ করেন, চলমান সংঘাত বিশ্বকে এক গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমরা আজ মানবতার এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি। যেখানে বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে শিশুরা প্রাণ হারাচ্ছে; বাড়িঘর, হাসপাতাল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হচ্ছে।” তিনি একে কেবল একটি আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং পুরো মানবজাতির জন্য একটি ‘গভীর নৈতিক চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে অভিহিত করেন।
বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলোকে। এতে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন আরও বিপন্ন হয়ে উঠছে। তিনি মনে করেন, এটি কেবল ভূ-রাজনীতি বা ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং মানব সভ্যতার টিকে থাকার ভবিষ্যতের প্রশ্ন।
ডঃ ইউনূসের প্রস্তাবিত সমাধান
যুদ্ধ থামাতে এবং শান্তি বজায় রাখতে বিশ্বনেতাদের সামনে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন:
কূটনৈতিক সংলাপ: সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনৈতিক আলোচনাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
আন্তর্জাতিক আইন: বিশ্বশান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনগুলোকে সমুন্নত রাখতে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ।
বৈশ্বিক ঐক্য: সাহস ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা।
শান্তির পথ: হামলা ও বিভাজনের পথ পরিহার করে সংলাপ এবং ঐক্যের পথে হাঁটা।
বিবৃতিটি শেষ করা হয়েছে একটি শক্তিশালী বার্তার মাধ্যমে— “আমাদের যুদ্ধ নয়, শান্তিকে বেছে নিতে হবে।”
উল্লেখ্য, অধ্যাপক ইউনূস সবসময়ই বিশ্বমঞ্চে শান্তি ও দরিদ্র বিমোচনের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে তার এই সময়োপযোগী আহ্বান আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
© দৈনিক প্রবাহ, ২০২৬। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।