বাঞ্ছারামপুর: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বাঞ্ছারামপুর উপজেলার একনিষ্ঠ ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন উপজেলার সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘ ১৭-১৮ বছর স্বৈরাচারী শাসনের জুলুম, মামলা-হামলা ও শারীরিক নির্যাতন সহ্য করেও দলের আদর্শ থেকে এক চুল বিচ্যুত হননি এই ত্যাগী নেতা।
নেতৃবৃন্দের শোক ও স্মৃতিচারণ: মরহুমের জানাজাপূর্ব সমাবেশে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদি হাসান পলাশ আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
“জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন আমাদের দুঃসময়ের কান্ডারি। রাজপথের যেকোনো কর্মসূচিতে তিনি ছিলেন অকুতোভয়। তার এই ত্যাগ বাঞ্ছারামপুর বিএনপি আজীবন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে। তিনি শুধু একজন নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন তৃণমূলের কর্মীদের জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি এ কে এম মুসা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন,
“স্বৈরাচারী সরকারের রোষানলে পড়ে জাহাঙ্গীর আলম ও তার পরিবার যে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তার ব্যবসা-বাণিজ্য ও সহায়-সম্পত্তি দখল করা হলেও তিনি দলের প্রতি ছিলেন অবিচল। আমরা অঙ্গীকার করছি, এই ত্যাগী নেতার পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে উপজেলা বিএনপি অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাশে থাকবে।”
দলের জন্য নিবেদিত এক প্রাণ: জাহাঙ্গীর আলম ছিলেন বাঞ্ছারামপুর বিএনপির এমন একজন নেতা যিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে দলকে স্থান দিতেন। স্থানীয় নেতাকর্মীরা জানান, যেকোনো সভা-সমাবেশে তিনি নিজের উদ্যোগে লোকবল নিয়ে হাজির হতেন এবং দলের প্রতি তার অকৃত্রিম দরদ তরুণ প্রজন্মের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
তার মৃত্যুতে বাঞ্ছারামপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। আজ তার জানাজায় হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে তিনি কতটা জননন্দিত ছিলেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপি, ছয়ফুল্লাকান্দি ইউনিয়ন বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে এবং শোকাতপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করা হয়েছে।