নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঞ্ছারামপুর | দৈনিক প্রবাহ নিউজ
বাঞ্ছারামপুর: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাঁচটি সড়ক বাতির বৈদ্যুতিক তার ও সরঞ্জাম চুরির ঘটনা ঘটেছে। অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতকারীরা তিনটি বাতিসহ এর যাবতীয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যাওয়ায় এলাকাটি এখন রাতে ভুতুড়ে অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের নিরাপত্তাহীনতা চরম পর্যায়ে পৌঁছালেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের রহস্যময় নীরবতা ও তদারকির অভাব নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় ঈদগাহের পূর্ব পাশের সড়কে জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচটি সড়ক বাতি স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি দুর্বৃত্তরা বাতিগুলোর মূল্যবান বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে গেছে এবং তিনটি বাতি সম্পূর্ণ উপড়ে নিয়ে চম্পট দিয়েছে। বর্তমানে সড়কের পাশে শুধু বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো আলো জ্বলছে না। (ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নির্জন সড়কের পাশে বাতিবিহীন খুঁটিগুলো অন্ধকার নামার অপেক্ষায় রয়েছে)।
সড়ক বাতি চুরির এই দুঃসাহসিক ঘটনার বেশ কিছু দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পৌরসভা বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ বা তদারকি চোখে পড়েনি। জননিরাপত্তার মতো এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের এই নির্লিপ্ততা নিয়ে স্থানীয় মহলে তীব্র সমালোচনা চলছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত পৌর কর আদায় করা হলেও নাগরিক সুবিধার সুরক্ষায় কর্তৃপক্ষের কোনো দায়বদ্ধতা নেই। সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নজরদারি না থাকায় অপরাধীরা সরকারি সম্পদ চুরির সাহস পাচ্ছে। এই উদাসীনতা প্রকারান্তরে অপরাধীদের উৎসাহিত করার নামান্তর।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি দিয়ে রাতে অসংখ্য মানুষ যাতায়াত করেন। সড়ক বাতিগুলো চুরি হওয়ার পর থেকে পুরো এলাকা ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঢাকা থাকে। অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে এখানে যেকোনো সময় বড় ধরনের ছিনতাই, মাদক সেবন বা অনাকাঙ্ক্ষিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের চলাচল এখন চরম ঝুঁকির মুখে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা দ্রুত মেরামতের দাবি জানিয়ে বলেন, ঈদগাহের মতো একটি পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পাশের সড়কে এমন চুরির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত এই সড়ক বাতিগুলো সংস্কার করে পুনরায় আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করতে এবং চুরির সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।