নিজস্ব প্রতিবেদক, বাঞ্ছারামপুর: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ সকালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব তরিকুল ইসলাম।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রঞ্জন বর্মন-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও জনাব তরিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হামের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই কার্যক্রম টানা ১১ দিনব্যাপী চলবে। এর মধ্যে প্রথম ৩ দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং পরবর্তী ৮ দিন কমিউনিটি পর্যায়ে প্রত্যেকটি ওয়ার্ডের ৩১২টি ব্লকে এই টিকা প্রদান করা হবে। আমাদের সর্বমোট লক্ষ্যমাত্রা ৪৮,৭৮৯ জন শিশু। আমি অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানাবো, আপনারা আপনাদের সন্তানদের নিকটবর্তী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা কমিউনিটি টিকাকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে হামের টিকা নিশ্চিত করুন।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রঞ্জন বর্মন কর্মসূচির কারিগরি দিক ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, “সারাদেশের ন্যায় বাঞ্ছারামপুরেও আজ থেকে এই ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। আমাদের উপজেলায় ইতিপূর্বে হামের লক্ষণ নিয়ে ১১ জন শিশু ভর্তি হয়েছিল, তবে পরীক্ষায় তাদের কারো পজেটিভ রিপোর্ট আসেনি এবং তারা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। অবশ্য গত মাসে দুইজন পজেটিভ রোগী শনাক্ত হয়েছিল যারা বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। আমরা চাই না এই সংক্রমণ আর ছড়াক।”
টিকা গ্রহণের নিয়মাবলী সম্পর্কে তিনি আরও জানান, “৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশু এই টিকা পাবে। তবে যারা গত ২৮ দিনের মধ্যে এই টিকা নিয়েছে, তাদের আর প্রয়োজন নেই। কিন্তু যারা ২৮ দিনের আগে নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় টিকা নিয়েছিল, তাদের এই বিশেষ ক্যাম্পেইনে অবশ্যই আরেক ডোজ টিকা নিতে হবে। এছাড়া অসুস্থ বা এলার্জিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশুদের এখনই টিকা দেওয়া হবে না; তারা সুস্থ হওয়ার পর টিকা নিতে পারবে। তবে অসুস্থ শিশুদের আমরা এক ডোজ ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে দিচ্ছি।”
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সফল করতে উপজেলায় মোট ৩১২টি অস্থায়ী টিকাকেন্দ্র এবং উপজেলা হাসপাতালে ১টি স্থায়ী টিকাকেন্দ্র কাজ করছে। মোট লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫,৪২১ জন এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ৪৩,৩৬৮ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই কর্মসূচি সফল করতে সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে।