নড়াইল, ২৩ ফেব্রুয়ারি: নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ ও তাঁর ছেলেসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এলাকায় বর্তমানে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নেতা খায়রুজ্জামান খায়ের মোল্লার অনুসারীদের সঙ্গে বিএনপি-সমর্থিত স্থানীয় নেতা খলিল মোল্লা ও তাঁর সহযোগীদের বিরোধ চলছিল। ৫ আগস্টের সরকার পরিবর্তনের পর এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা নতুন করে বাড়তে থাকে। সম্প্রতি খায়ের মোল্লার অনুসারীরা এলাকায় ফিরে আসলে দুই পক্ষের মধ্যে টানটান উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যা সোমবার ভোরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
নিহতরা হলেন—বড়কুলা গ্রামের রহমান খলিল, তাঁর ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন এবং প্রতিপক্ষের ওসিবুর মিয়া। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওসিবুর মিয়াকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নড়াইল সদর থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বলেন, “পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”
সংঘর্ষের জেরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য সহিংসতা এড়াতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে, বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি পূর্বের আধিপত্য বিস্তারসংক্রান্ত বিরোধেরই জেরে ঘটেছে। পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হবে।