নিজস্ব প্রতিবেদক, নবীনগর | ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে মেঘনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৪ জন সরাসরি গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, গত কয়েকদিন ধরেই চরলাপাং সংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছিল। গ্রামবাসী তাদের ফসলি জমি ও ভিটেমাটি ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে এতে বাধা দিয়ে আসছিল। আজ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আবারও বালু উত্তোলন শুরু করলে গ্রামবাসী সমবেত হয়ে প্রতিবাদ জানায়।
হামলার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিবাদ করায় পার্শ্ববর্তী বাঞ্ছারামপুর থানার মীর্জাচর এলাকা থেকে আসা একদল ভাড়াটে সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গ্রামবাসীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়লে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই চারজন গুরুতর আহত হন।
হতাহতের তথ্য
গুলিবিদ্ধ ও আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন:
নুরুল আমিন (৪০)
আব্দুর রউফ (৪৫)
সফর মিয়া (৫০)
নূু মিয়া (৩৮)
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গুলিবিদ্ধদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছররা গুলির চিহ্ন রয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য
খবর পেয়ে নবীনগর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।