• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
প্রধান সংবাদ
দেবিদ্বারে স্কুল শিক্ষককে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে পর্নোগ্রাফি তৈরি: নারী আটক, কারাগারে প্রেরণ “বাঞ্ছারামপুরে মধ্যরাতে পুলিশের অভিযান: ১২ ড্রাম চোরাই অকটেনসহ গাড়ি জব্দ” “বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ডকুমেন্টারি নির্মাণ প্রতিযোগিতা” মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টা ডঃ ইউনূসের জরুরি আহ্বান বাঞ্ছারামপুরে আধুনিক ও বাসযোগ্য পৌরসভা গড়তে স্টেকহোল্ডারদের মতবিনিময় সভা “বাঞ্ছারামপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সড়ক বাতি চুরি: কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় অন্ধকারে জননিরাপত্তা ঝুঁকি” গ্যাস সিলিন্ডারের ‘মেমো উধাও’: বাঞ্ছারামপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বড় জরিমানা। রাজধানীর নয়াবাজারে যুবদল সদস্য গুলিবিদ্ধ বাঞ্ছারামপুরে পুলিশের অভিযানে ৭ জুয়াড়ি গ্রেফতার, নগদ টাকা ও তাস উদ্ধার বাঞ্ছারামপুরে দুলালরামপুর হাসু ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রথম এসএসসি ব্যাচের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত

​”কারাগারে তাহরিমার সেই ভয়াবহ দিনগুলো: মেয়ের পিঠের ক্ষত দেখে কেঁদে দিলেন মা”

স্টাফ রিপোর্টার || দৈনিক প্রবাহ / ২০১ Time View
Update : বুধবার, ৭ জানুয়ারি, ২০২৬

সম্প্রতি কারামুক্ত তাহরিমা জান্নাত সুরভীর সাথে টঙ্গীতে তার নিজ বাসভবনে দেখা করতে যান নাহিদ ইসলামসহ এক প্রতিনিধি দল। সেখানে তাহরিমা তার কারাজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে কারাগারের ভেতরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।

১. সেলের ভেতর অমানবিক নির্যাতনের চিত্র

তাহরিমা জানান, তিনি যে ওয়ার্ডে বন্দী ছিলেন সেখানে মোট ১২ জন বন্দীর মধ্যে বাকি ১১ জনই ছিলেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ওই নারী বন্দীরা তাহরিমার ওপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।

তাহরিমার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, মারধরের আঘাতে তাহরিমার পিঠ এখনো ফুলে আছে। কারাগারের ভেতরে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাঝে একজন বন্দীর ওপর অন্য বন্দীদের এমন শারীরিক প্রহারের ঘটনা কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

২. কারাব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

তাহরিমার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জরাজীর্ণ কারাব্যবস্থার চিত্রটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে:

কারা পুলিশের নিস্ক্রিয়তা: বন্দীদের ওপর নির্যাতন চললেও কারারক্ষী বা পুলিশি ব্যবস্থাপনায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

আইনি সহায়তার অভাব: আইনজীবীদের সাথে নিয়মিত কথা বলার বা সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কোনো আধুনিক পদ্ধতি কার্যকর নেই।

নিরাপত্তাহীনতা: ভিন্ন মতাদর্শের বন্দীদের একই ওয়ার্ডে রাখার ফলে সংখ্যালঘু মতের বন্দীদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে।

৩. ‘সংশোধনাগার’ নাকি ‘অপরাধ তৈরির কেন্দ্র’?

তাত্ত্বিকভাবে কারাগারকে একটি ‘সংশোধনাগার’ বলা হলেও বাস্তবে বাংলাদেশে এর প্রয়োগ নেই বললেই চলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় অপরাধীরা জেলে গিয়ে আরও বড় অপরাধীতে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে, নম্র-ভদ্র বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

তাহরিমার এই তিক্ত উপলব্ধিকে সামনে রেখে দেশের মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন সমাজ অবিলম্বে কারা রিফর্মেশন বা কারাসংস্কার আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।

ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ: দেশের কারাগারগুলোকে প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd
Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com