তদন্তে পক্ষপাতের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) বহুল আলোচিত ‘পরীক্ষা না দিয়েই পাস’ কেলেঙ্কারির সাত মাস পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়েনি। অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সুরাইয়া ইয়াসমিন ঐশী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে স্নাতকোত্তরের প্রথম সেমিস্টারের মিডটার্ম পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই পাস করার অভিযোগ ওঠে ঐশীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গত ২২ জানুয়ারি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে এখনো প্রতিবেদন জমা দেয়নি কমিটি।
বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, তদন্ত কমিটির সদস্যরা কোনো কার্যকর তদন্তই করেননি। সদস্য সচিব হিসেবে গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আব্দুল হান্নান দায়িত্বে থাকায় পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। কমিটির আহ্বায়ক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক তানজিউল ইসলাম জীবন ব্যক্তিগত কারণে শুরুতেই দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছিলেন।
একই বিভাগের শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, “তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে কিন্তু প্রতিবেদন বা শাস্তির ব্যবস্থা হয়নি। প্রশাসন যেন ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “বেরোবির শিক্ষার্থীরা আবারও আন্দোলনে নামলে তখন কেউ গা বাঁচাতে পারবে না।”
অভিযুক্ত ঐশী দাবি করেছেন, তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তবে কবে ও কখন পরীক্ষা দিয়েছেন সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেননি। সহপাঠীরা বলছেন, তারা ঐশীকে পরীক্ষায় উপস্থিত থাকতে দেখেননি।
১৬ জুলাই ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের হামলায় আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর থেকেই ঐশী আত্মগোপনে আছেন। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ দপ্তরের পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও অন্য কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব মো. আব্দুল হান্নান বলেন, “আমরা কাজ করেছি। তদন্ত চলমান। শীঘ্রই রিপোর্ট দেব।”