হোমনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় যেন এক অনিয়মের কারখানা। নিয়মের ধার ধারে না কেউ, অভিযোগ করেও মিলছে না প্রতিকার — এমনটাই দাবি ভুক্তভোগীদের।
তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, দলিলের গুরুত্বপূর্ণ ৫২ ধারা রশিদ লেখার দায়িত্ব অফিস সহকারীর হলেও, অফিসের নকল নবিসরা তা নিয়মভঙ্গ করে লিখছেন, যেন সুবিধাভোগের নতুন রাস্তা খুলে যাচ্ছে। সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ই যেন এ অনিয়মের মূল লক্ষ্য।
ভুক্তভোগীরা জানান, বিষয়টি জেলা সাব-রেজিস্ট্রারকে লিখিতভাবে জানানোর পরও এক মাস ধরে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি হোমনা সাব-রেজিস্ট্রার অফিস।
এছাড়া নিয়ম ভেঙে ভূমির শ্রেণি যাচাই ছাড়াই দলিল নিবন্ধন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এমনকি ভুয়া দাতার মাধ্যমে অন্যের সম্পত্তি হস্তান্তরের ঘটনাও ঘটেছে।
উদাহরণস্বরূপ, ইটাভরা মৌজার ৪৩৭ খতিয়ানের বিএস ৫৫ দাগে থাকা একটি জমির দলিলে উল্লেখ থাকা দাতার জন্মনিবন্ধন থাকলেও, স্থানীয় কেউ তাকে চিনে না। চমকপ্রদ বিষয় হলো, গত বছরের ৪ আগস্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বন্ধ থাকা অবস্থায় ৩৭১৮ নং দলিল সৃজন হয়।
এই সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হোমনা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার মিলন কুমার শিয়লী জানান, তিনি অভিযোগ ও জেলা কার্যালয়ের নির্দেশনা পেয়েছেন। তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
৫২ ধারার অনিয়ম বিষয়ে বলেন, “নির্দেশনা এক মাস আগে এলেও সময় বাড়ানো হয়েছে। খুব দ্রুত বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।”
তিনি পরবর্তীতে সরাসরি সাক্ষাৎকারের আহ্বানও জানান।