আজ ইসরাইলের “যুদ্ধবিরতি” ঘোষণা শুনে কেউ যদি মনে করে শান্তি আসছে — তবে তা এক ভয়াবহ ভ্রম। ইতিহাস সাক্ষী, মুসলমানদের যতবার অস্ত্র নামাতে বাধ্য করা হয়েছে, প্রতিবারই তার পরিণতি এসেছে রক্ত ও অশ্রুর স্রোতে।
১️⃣ ১২৫৮ খ্রিস্টাব্দ — বাগদাদ:
হুলাগু খানের প্রতিশ্রুতি ছিল, “অস্ত্র সমর্পণ করলে জীবন রক্ষা করা হবে।”
➡️ কিন্তু সে প্রতারণা করে হত্যা করে লক্ষাধিক মুসলমান, ধ্বংস করে দেয় ইসলামী সভ্যতার প্রাণকেন্দ্র বাগদাদ।
২️⃣ ১৪৯২ খ্রিস্টাব্দ — আন্দালুসিয়া:
ক্যাথলিক রাজা ফের্দিনান্দ নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মুসলমানদের।
➡️ কিন্তু গ্রানাডা পতনের পর শুরু হয় গণহত্যা ও নির্বাসন।
শেষ পর্যন্ত স্পেনে মুসলমানদের অস্তিত্ব মুছে যায়।
৩️⃣ ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দ — আলজেরিয়া:
ফরাসি সেনারা বলেছিল, “অস্ত্র দাও, শান্তি দাও।”
➡️ কিন্তু শান্তি আসেনি— এসেছে ১৩২ বছরের দাসত্ব ও ঔপনিবেশিক শাসন।
৪️⃣ ১৯৪৮ খ্রিস্টাব্দ — ফিলিস্তিন:
কিছু গ্রাম অস্ত্র নামিয়েছিল জায়নিস্টদের কথায়।
➡️ তার ফল— দেইর ইয়াসিন হত্যাযজ্ঞ ও লক্ষাধিক মুসলমানের বাস্তুচ্যুতি।
৫️⃣ ১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ — বসনিয়া:
জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে মুসলমানদের নিরস্ত্র করা হয়।
➡️ এরপর ঘটে স্রেব্রেনিৎসা হত্যাযজ্ঞ, যেখানে ৮,০০০ এর বেশি মুসলমান পুরুষ ও কিশোর নিহত হয়।
কিন্তু আল্লাহ তাআলা সতর্ক করেছেন—
“কাফেররা কামনা করে যে, তোমরা তোমাদের অস্ত্র ও সরঞ্জামের ব্যাপারে গাফিল হবে, যাতে তারা হঠাৎ তোমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে! … তবে তোমরা সাবধান থেকো! নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফেরদের জন্য অপমানজনক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।”
📖 — সূরা আন-নিসা, আয়াত ১০২
👉 ইতিহাসের পাঠ ভুলে গেলে পরাজয় অনিবার্য।
👉 আল্লাহর নির্দেশেই রয়েছে প্রকৃত নিরাপত্তা, শত্রুর প্রতিশ্রুতিতে নয়।
👉 মুসলমানরা যতদিন ঈমান ও প্রস্তুতি ধরে রাখবে, ততদিন তাদের উপর আল্লাহর সাহায্য অব্যাহত থাকবে।
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন —
“হে আল্লাহ! আমাদের শামকে বরকতময় করো, আমাদের ইয়ামানকে বরকতময় করো।”
📚 — সহীহ বুখারী: 1037, সহীহ মুসলিম: 1374
📖 শাম অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ফিলিস্তিনের জন্যই এই দোয়া— নবীজির মুখ থেকে বেরিয়েছিল করুণা, মমতা ও বরকতের প্রার্থনা।
আজ সেই ফিলিস্তিন রক্তাক্ত, কিন্তু আল্লাহর দোয়া ও প্রতিশ্রুতি এখনো তাদের সঙ্গেই আছে।
🖋️ প্রতিবেদক: আতিকুর রহমান লিটন