সম্প্রতি কারামুক্ত তাহরিমা জান্নাত সুরভীর সাথে টঙ্গীতে তার নিজ বাসভবনে দেখা করতে যান নাহিদ ইসলামসহ এক প্রতিনিধি দল। সেখানে তাহরিমা তার কারাজীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে কারাগারের ভেতরে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন তিনি।
১. সেলের ভেতর অমানবিক নির্যাতনের চিত্র
তাহরিমা জানান, তিনি যে ওয়ার্ডে বন্দী ছিলেন সেখানে মোট ১২ জন বন্দীর মধ্যে বাকি ১১ জনই ছিলেন আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ওই নারী বন্দীরা তাহরিমার ওপর নিয়মিত মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতেন।
তাহরিমার মা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, মারধরের আঘাতে তাহরিমার পিঠ এখনো ফুলে আছে। কারাগারের ভেতরে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মাঝে একজন বন্দীর ওপর অন্য বন্দীদের এমন শারীরিক প্রহারের ঘটনা কারা কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
২. কারাব্যবস্থাপনার দুর্বলতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
তাহরিমার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জরাজীর্ণ কারাব্যবস্থার চিত্রটি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে যে:
কারা পুলিশের নিস্ক্রিয়তা: বন্দীদের ওপর নির্যাতন চললেও কারারক্ষী বা পুলিশি ব্যবস্থাপনায় কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
আইনি সহায়তার অভাব: আইনজীবীদের সাথে নিয়মিত কথা বলার বা সার্বক্ষণিক যোগাযোগের কোনো আধুনিক পদ্ধতি কার্যকর নেই।
নিরাপত্তাহীনতা: ভিন্ন মতাদর্শের বন্দীদের একই ওয়ার্ডে রাখার ফলে সংখ্যালঘু মতের বন্দীদের জীবনের ঝুঁকি বাড়ছে।
৩. ‘সংশোধনাগার’ নাকি ‘অপরাধ তৈরির কেন্দ্র’?
তাত্ত্বিকভাবে কারাগারকে একটি ‘সংশোধনাগার’ বলা হলেও বাস্তবে বাংলাদেশে এর প্রয়োগ নেই বললেই চলে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় অপরাধীরা জেলে গিয়ে আরও বড় অপরাধীতে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে, নম্র-ভদ্র বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার ব্যক্তিরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
তাহরিমার এই তিক্ত উপলব্ধিকে সামনে রেখে দেশের মানবাধিকার কর্মী ও সচেতন সমাজ অবিলম্বে কারা রিফর্মেশন বা কারাসংস্কার আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ: দেশের কারাগারগুলোকে প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগার হিসেবে গড়ে তুলতে ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।