আসামিদের ফোনে স্বামীর আর্তনাদ শুনেছিলেন স্ত্রী, হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা
(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে চোর সন্দেহে মোটরসাইকেল মেকার মো. ফোরকান মিয়াকে (৩৫) হাত-পা বেঁধে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ২৬ ডিসেম্বর রাতে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার আছাদনগর বাজারে একটি ভাঙ্গারী দোকানের ভেতর এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
০১। মোঃ শফিকুল ইসলাম (৪৪), পিতা- মৃত সওদাগর মিয়া, মাতা- মৃত আছিয়া খাতুন, ০২। মোঃ জাহিদুল ইসলাম রবিন (১৯),পিতা- মোঃ শফিকুল ইসলাম, মাতা- বেবি আক্তার, উভয় সাং-আছাদগনর, ০৯নং ওয়ার্ড, বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা, ০৩। মোঃ রিমন মিয়া (৩০), পিতা- মোঃ জাকির হোসেন, মাতা-মাহফুজা আক্তার, সাং-জগন্নাথপুর (মধ্যপাড়া), ০৪। মোঃ খাইরুন ইসলাম প্রঃ হৃদয় (২০), পিতা- খোকন মিয়া, মাতা-লাকী আক্তার, সাং-আছাদগনর, ০৯নং ওয়ার্ড,সর্ব বাঞ্ছারামপুর পৌরসভা,থানা-বাঞ্ছারামপুর,জেলা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নিহত ফোরকান মিয়া উপজেলার পাহাড়িয়াকান্দি ইউনিয়নের কলাকান্দি গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে। তিনি স্থানীয় একটি গ্যারেজে মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন। নিহতের স্ত্রী শারমিন আক্তারের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় আসামি রবিন ও হৃদয় চোর সন্দেহে ফোরকানকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আছাদনগর বাজারের ‘ভাই ভাই ভাঙ্গারী দোকানে’ আটকে রাখে। সেখানে আসামিরা লোহার শিকল দিয়ে তার হাত-পা বেঁধে স্টিলের পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে নৃশংসভাবে পিটিয়ে জখম করে।
এক পর্যায়ে আসামিরা ফোরকানের ফোন থেকে তার স্ত্রীকে কল দিয়ে মারধরের আর্তনাদ শোনায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রিকশায় করে হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, এ ঘটনায় মামলা রুজু হয়েছে (মামলা নং-০৮) এবং তদন্ত চলছে।