নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে হাতকড়াসহ দুই মাদক মামলার আসামি পলায়নের ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে ঘটা এই ঘটনার পর পুলিশি তৎপরতায় দুই আসামিকেই পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও দায়িত্বে অবহেলার দায়ে দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে বিকেলে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার আয়ুবপুর কানাইনগর এলাকা থেকে ৪ কেজি গাঁজাসহ সজল মিয়া (২৭) ও শাহিন মিয়া (২৯) নামে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে তাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে সোপর্দ করতে নিয়ে আসেন কনস্টেবল সোহেল ও রয়েল বড়ুয়া। আদালত চত্বরে মাইক্রোবাস থেকে নামানোর সময় দুই আসামিই অতর্কিতভাবে লাফ দিয়ে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
গ্রেপ্তার অভিযান:
আসামি পলায়নের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো আদালত পাড়ায় আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান শুরু করে। ঘটনার এক ঘণ্টার মধ্যে স্থানীয় হাসিনাবাগ এলাকা থেকে সজল মিয়াকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। তবে অপর আসামি শাহিন মিয়া আত্মগোপনে চলে যায়।
পরবর্তীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল এলাকা থেকে পলাতক শাহিন মিয়াকেও পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সজল মিয়া বিজয়নগর উপজেলার কাশিনগর এলাকার মৃত হাসিম মিয়ার ছেলে এবং শাহিন মিয়া একই এলাকার মৃত জালাল মিয়ার ছেলে।
প্রশাসনের পদক্ষেপ:
আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এভাবে আসামি পলায়নের ঘটনাকে চরম পেশাদারিত্বের অভাব ও নিরাপত্তা বিচ্যুতি হিসেবে দেখছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে কনস্টেবল সোহেল ও কনস্টেবল রয়েল বড়ুয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ ইয়াসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “আসামিরা হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় ছিল। তারা কীভাবে হ্যান্ডকাফ খুলে বা পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেল, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে দুই আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
এদিকে আদালত পাড়া থেকে আসামির পলায়ন ও পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় জেলাজুড়ে জনমনে নানা কৌতূহল ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।