মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন বাঞ্ছারামপুরের সেই ভাগ্যহত গৃহবধূ মাহমুদা আক্তার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে কয়েকদিন লড়াই করার পর তার এই প্রস্থানে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গত ২৭শে মার্চ ইফতারের পর আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে আইয়ুবপুর ইউনিয়নের কানাইনগর গ্রামে এই নৃশংস হামলার শিকার হন মাহমুদা। বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে স্বামী দুলাল মিয়া কৌশলে তাকে বাড়ির অদূরে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে লুকিয়ে রাখা ধারালো অস্ত্র (দা) দিয়ে মাহমুদাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পাষণ্ড স্বামী। মাহমুদার আর্তচিৎকারে এলাকাবাসী এগিয়ে এলে ঘাতক দুলাল পালানোর চেষ্টা করে।
রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথমে বাঞ্ছারামপুর ও পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত থাকায় আজ তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ফেরিঘাট এলাকা থেকে ঘাতক দুলালকে ধরে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখান থেকে পুলিশের পাহারার অভাব কিংবা অবহেলার সুযোগ নিয়ে সে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। একজন খুনি কীভাবে হাসপাতাল থেকে চম্পট দিল, তা নিয়ে এখন জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
মাহমুদার মৃত্যুর খবর কানাইনগর গ্রামে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং অবিলম্বে ঘাতক দুলাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে ফাঁসির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর থানার পক্ষ থেকে এখনো কোনো জোরালো পদক্ষেপের খবর পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়রা দ্রুত এই খুনিকে আইনের আওতায় আনার দাবি তুলেছেন।