নিজস্ব প্রতিবেদক, নবীনগর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার: নবীনগরে অবস্থিত ‘আহামেদ প্রাইভেট হাসপাতালে’ আবারও ভুল চিকিৎসায় এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাণ্ডজ্ঞানহীন অবহেলায় ওই গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছেন নিহতের স্বজনরা।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অস্ত্রোপচারের কিছুক্ষণ পরই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে এবং তিনি মারা যান। অভিযোগ উঠেছে, রোগীর মৃত্যুর বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রেখে কৌশলে লাশ হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সে ফেলে রেখে চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।
বিক্ষোভ ও হামলা: আজ সকালে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী ক্ষোভে ফেটে পড়েন। উত্তেজিত জনতা সকালে হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং একপর্যায়ে হাসপাতালের ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
স্বজনদের আহাজারি: হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহতের মায়ের বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। বিলাপ করতে করতে তিনি বলেন, “ওরা আমার মেয়েটারে কসাইয়ের মতো মাইরা ফেলল। কাউরে কিছু না জানাইয়া চোরের মতো সবাই পলাইছে। আমি আমার মেয়ের হত্যার বিচার চাই।”
বর্তমান অবস্থা: ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাউকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এই হাসপাতালে ইতিপূর্বেও একাধিকবার ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু বারবারই তারা পার পেয়ে যাচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে হাসপাতাল এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।