উন্নয়ন, বিদ্যুৎ সংকট সমাধান নাকি নতুন দুশ্চিন্তা—বিশ্লেষণে বিশেষজ্ঞরা।
বাংলাদেশে বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। শিল্পায়ন, নগরায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এখন সময়ের দাবি। এই প্রেক্ষাপটে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প Rooppur Nuclear Power Plant ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা—এটি দেশের জন্য আশীর্বাদ নাকি সম্ভাব্য ঝুঁকি?
পাবনার রূপপুরে নির্মাণাধীন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি রাশিয়ার Rosatom এর প্রযুক্তি সহায়তায় তৈরি হচ্ছে। সরকার বলছে, এটি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের বিদ্যুৎ যোগ হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
উপকারিতা: কেন গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প?
পারমাণবিক বিদ্যুৎ ২৪ ঘণ্টা উৎপাদন করা সম্ভব, যা শিল্প ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সোলার বা উইন্ডের মতো এটি আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল নয়।
Climate Change মোকাবিলায় পারমাণবিক শক্তি তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব। এতে কার্বন নিঃসরণ খুব কম হয়।
দেশের গ্যাস মজুত কমে আসছে। এই অবস্থায় পারমাণবিক শক্তি বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।
এ ধরনের প্রকল্প দেশীয় প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করে।
অপকারিতা ও ঝুঁকি: কোথায় উদ্বেগ?
বিশ্বের বড় দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে Fukushima nuclear disaster এবং Chernobyl disaster এখনো মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। যদিও আধুনিক প্রযুক্তি নিরাপদ, তবুও ঝুঁকি একেবারে শূন্য নয়।
পারমাণবিক বর্জ্য হাজার বছর পর্যন্ত ক্ষতিকর থাকতে পারে। এগুলোর নিরাপদ সংরক্ষণ একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
এই প্রকল্পের ব্যয় অত্যন্ত বেশি, এবং এর বড় অংশ বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হতে পারে।
বড় প্রকল্পে অনিয়ম বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। এতে জনগণের আস্থা কমে যেতে পারে।
বিশ্বের অনেক দেশ, বিশেষ করে জার্মানি Energiewende নীতির মাধ্যমে সৌর ও বায়ু শক্তির দিকে ঝুঁকছে। বাংলাদেশেও সৌরবিদ্যুৎ বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে, তবে জমির সীমাবদ্ধতা ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এখনো বড় বাধা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, একক কোনো উৎসের ওপর নির্ভর না করে “মিশ্র জ্বালানি নীতি” গ্রহণ করা উচিত। পারমাণবিক শক্তি, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং গ্যাস—সবকিছুর সমন্বয়ই হতে পারে টেকসই সমাধান।
বাংলাদেশের জন্য পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প যেমন বড় সম্ভাবনার দ্বার খুলছে, তেমনি তৈরি করছে নতুন ধরনের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ। সঠিক পরিকল্পনা, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই প্রকল্প দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায়, এটি দীর্ঘমেয়াদে বোঝা হয়ে দাঁড়ানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
https://thedailyprabaha.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫