নিজস্ব প্রতিবেদক | বাঞ্ছারামপুর: দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে কোনো কার্যকর ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই ধারিয়ারচর বাজারে। কমিটির অনুপস্থিতিতে বাজারের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ স্থবির হয়ে পড়লেও থেমে নেই অর্থ আদায়। নিয়মিত বিভিন্ন খাতে টাকা তোলা হলেও বাজারের পরিবেশ দিন দিন বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের।
পরিচ্ছন্নতার লেশমাত্র নেই, বাড়ছে ক্ষোভ
বাজারের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বাজার থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হলেও ন্যূনতম সেবা মিলছে না। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাজারের রক্ষণাবেক্ষণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেননি। এমনকি বাজারে ঝাড়ু দেওয়ার মতো সাধারণ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পরিচালিত হয় না। ফলে চারদিকে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ জমে দুর্গন্ধে নাভিশ্বাস উঠছে জনমনে।
বৃষ্টিতে সৃষ্টি হয় 'মরণফাঁদ'
সামান্য বৃষ্টিতেই বাজারের প্রধান সড়ক ও বিভিন্ন অলিগলিতে হাঁটুসমান পানি জমে যায়। নিকাশি ব্যবস্থা (ড্রেনেজ) সচল না থাকায় এই ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি দীর্ঘ সময় আটকে থাকে।
"বাজারে ব্যবসা করা এখন দায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা আর পচা পানির ওপর দিয়ে চলতে হয়। টাকা ঠিকই দিচ্ছি, কিন্তু সেবা পাচ্ছি না।"
— জনৈক স্থানীয় ব্যবসায়ী
ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদা ও নোংরা পানি মাড়িয়েই তাদের প্রতিদিন স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। এতে একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের পোশাক নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। অভিভাবকরা একে জনস্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয়দের দাবি
বিদ্যমান সংকট নিরসনে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা তিনটি প্রধান দাবি জানিয়েছেন:
স্বচ্ছ নির্বাচন: অবিলম্বে একটি কার্যকর ও নিরপেক্ষ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে।
অর্থের হিসাব: গত ১৭ বছরে সংগৃহীত অর্থের যথাযথ হিসাব এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।
অবকাঠামো উন্নয়ন: দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই চরম অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
https://thedailyprabaha.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫