ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানিকপুর ইউনিয়নের কল্যানপুর গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসহায় গ্রামবাসীর কাছ থেকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ করে দেওয়ার কথা বলে ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে আসছেন।
অভিযোগ রয়েছে, মহিউদ্দিন নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচয় দিয়ে এবং পেশিশক্তির ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে জোরপূর্বক টাকা আদায় করতেন। এলাকাবাসী জানায়, তিনি প্রায়ই বলতেন—তাদের পরিবারে ৫ ভাই, তারা কাউকে ভয় পান না। এই ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তিনি নিজের প্রভাব বজায় রাখতেন এবং বিভিন্ন কাজ হাসিল করতেন।
শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, সরকারি বরাদ্দকৃত রাস্তা নির্মাণের কথা বলেও তিনি এলাকাবাসীর কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অফিস থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ নেওয়ার তথ্যও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
নতুন করে আরও অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়—বিভিন্ন অফিসারের সঙ্গে সুসম্পর্ক (রিয়াজু) বজায় রাখতে তিনি তাদের বাসায় নিয়মিত মাছ, মাংস ও নগদ অর্থ পৌঁছে দিতেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তিনি আরও অর্থ হাতিয়ে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ মোকবুল হোসেন বলেন, মহিউদ্দিন রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে সুবিধা নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করেছেন। তিনি দাবি করেন, মহিউদ্দিন বিএনপির ভোট না দিলেও মানিকপুর ইউনিয়নের প্রভাবশালী আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুর রশিদের কাছ থেকে গত ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আসছেন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়েও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পুনর্বাসন সুবিধা নিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
https://thedailyprabaha.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫