ঢাকা | মার্চ ২০২৬ : সাবেক সংসদ সদস্য এবং সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সুনির্দিষ্ট আর্থিক জালিয়াতি, মানবপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করেছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন ও পরবর্তী সরকারের আমলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মালয়েশিয়া জনশক্তি সিন্ডিকেট: ২৪ হাজার কোটি টাকার অনিয়ম
তদন্তকারী সংস্থাগুলোর (সিআইডি ও দুদক) তথ্য অনুযায়ী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ছিলেন মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর বিতর্কিত 'সিন্ডিকেট'-এর অন্যতম প্রধান হোতা।
অস্বাভাবিক অর্থ আদায়: সরকারিভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার খরচ ৭৯,০০০ টাকা নির্ধারিত থাকলেও, তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান 'ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল' সহ সিন্ডিকেটভুক্ত অন্যান্য এজেন্সিগুলো জনপ্রতি ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করেছে।
অর্থ পাচার: সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই সিন্ডিকেট গত দেড় বছরে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার শ্রমিক পাঠিয়ে প্রায় ২৪,০০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে একটি বড় অংশ বিদেশে পাচার করার অভিযোগে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করা হয়েছে।
২. ১/১১-এর কুশীলব ও রাজনৈতিক বিতর্ক
মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ২০০৭ সালের বিতর্কিত ১/১১ পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তৎকালীন সাভারের জিওসি হিসেবে তিনি জরুরি অবস্থা জারিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
রাজনৈতিক অবস্থান: পরবর্তীতে তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে ফেনী-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে তিনি 'ডামি নির্বাচনে'র মাধ্যমে নিজের আসন পাকাপোক্ত করেছিলেন এবং এই রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েই তিনি জনশক্তি রপ্তানি বাজারে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন।
৩. মামলার বর্তমান অবস্থা
পুলিশ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সূত্র জানিয়েছে:
তার বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একাধিক মামলা রুজু হয়েছে।
সিআইডি ইতোমধ্যেই তার এবং তার প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো ফ্রিজ (স্থগিত) করেছে, যেখানে প্রাথমিক অনুসন্ধানে কয়েকশ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তদন্তে সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এবং সাবেক এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারীর সাথে তার ব্যবসায়িক ও সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্টতার প্রমাণও মিলছে।
৪. জনমনে প্রতিক্রিয়া
সাধারণ শ্রমিকরা, যারা জমি বা সম্পদ বিক্রি করে মালয়েশিয়া গিয়ে কাজ না পেয়ে নিঃস্ব হয়ে ফিরে এসেছেন, তারা এই গ্রেপ্তারকে স্বাগত জানিয়েছেন। নাগরিক সমাজ এই লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধার করে ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি তুলেছে।
পরবর্তী আপডেট: আদালত তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে আরও রাঘববোয়ালদের নাম বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
https://thedailyprabaha.com
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫