ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা ইদ্রিস আলী মেম্বার ওরফে বাইল্লা ফরদাইনা এবং তার বড় ছেলে মুর্শিদ দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাস, চুরি, নির্যাতন ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাদের অপরাধের ধারা এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, যা আমাদের প্রবাসী সমাজের জন্য একটি গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সম্প্রতি জানা গেছে, মুর্শিদ এবং তার ছেলে বাইজিদ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে আজমান সহরে বাঙালি মার্কেটে একটি গার্মেন্টস ট্রেডিং দোকানে কর্মরত ছিলেন। দোকানের মালিক তাদের বিশ্বাস করে গোডাউনের দায়িত্ব এবং চাবি দিয়ে দেন।
প্রাথমিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেও কিছুদিনের মধ্যেই তারা বাপ-ছেলে মিলে দোকানের প্রায় ৫,০০০০০ দিরহাম মূল্যের মালামাল বিক্রি করে আত্মসাৎ করেন। এই ঘটনায় প্রবাসী মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এই পরিবার শুধু চুরি কিংবা প্রতারণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তাদের নিজ এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তাদের অপরাধমূলক ইতিহাস বহু পুরনো এবং রক্তাক্ত বলে এলাকাবাসীর দাবি।
মুর্শিদ মিয়া নিজেই তার ছোট ভাই মহসিন মেম্বার—যিনি নিজেও মেম্বার প্রার্থী ছিলেন—তার প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থীর আত্মীয় আলেক মিয়াকে নির্মমভাবে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আধিপত্য বজায় রাখা।
ঘটনার পর, ফ্যাসিবাদী রাজনীতির আশ্রয়ে শেখ হাসিনার দোসর হিসেবে তিনি জামিন পেয়ে যান, যা আইন-শৃঙ্খলা ও বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করেছে।
বিগত আওয়ামী লীগ আমলে এই পরিবার ১৫ বছর ধরে রাধানগরে চুরি, জমি দখল, নারী নির্যাতন, এমনকি ধর্ষণ ও খুনের মতো অপরাধে জড়িত ছিল বলে জানা গেছে। এখন প্রবাসেও তারা নিজেদের অপরাধের জাল বিস্তার করেছে। কোথায় আছে দেকি স্বর্গে গেলেও নাকি বাড়াবাঁনে।
এই ঘটনার পর, স্থানীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে জোর দাবি উঠেছে—এই চক্রকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং তাদের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আমরা আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আমাদের দেশের সুনাম রক্ষায় আমাদের সকলের একত্রিত হওয়া প্রয়োজন।